চিকিৎসকের মৃ’ত্যুতে কা’ন্নার বৃষ্টিতে ভিজছে মিশর

নিতান্তই গরিব পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তারপর একদম শূন্য থেকে নিজের যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর আকাশ ছুঁয়ে আবার আকাশে চলে গেলেন। আর সেই শোকে মিশর ভিজছে কা’ন্নার বৃষ্টিতে।

আরব নিউজ’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এমন এক চিকিৎসকের গল্প যিনি তার মেধা ও শ্রম মানুষের কল্যাণে দিয়ে গেছেন।

‘সৃষ্টিক’র্তার কাছে বলেছিলাম কোনোদিন গরিবের থেকে এক পয়সাও নেব না। তাদের সেবা করতেই ক্লিনিকে থাকব।’ সারাজীবন এ কথা বলে যাওয়া মিশরের চিকিৎসক মোহাম্ম’দ মাশলি ৭৬ বছর বয়সে মৃ’ত্যুবরণ করেছেন।

মৃ’ত্যুর আগেই মিশরে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন প্রবীণ এই চিকিৎসক। মাশলি গরিবের থেকে কোনো অর্থ নিতেন না। আর অন্যদের থেকেও নামমাত্র ফি নিতেন মাত্র ৫ মিশরীয় পাউন্ড। মিশরের একাধিক টিভি তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রচারিত করেছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান তাকে সম্মাননা জানিয়েছে।

একবার মাশলির এক সাক্ষাৎকার দেখে গোটা মিশর কেঁদেছিলো। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি পিছিয়ে পড়া একটি অঞ্চলে কাজ করার অ’ভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। ‘অল্পবয়সী এক ডায়াবেটিক শি’শু তার মায়ের সঙ্গে কাঁদতে কাঁদতে আমা’র কাছে এসেছিলো।

মাকে বলছে ইনজেকশন দিতে কিন্তু মা শি’শুটিকে বলছিলো, ইনজেকশন কিনলে খাবার কেনা হবে না।’ এ ঘটনা বলতে বলতে সেদিন মাশলি নিজেই কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, আমি আজও সেদিনের কথা ভুলতে পারি না। সেই থেকে সিদ্ধান্ত নেই আমা’র মেধা আমি গরিবদের উৎসর্গ করব।

এদিকে মৃ’ত্যুর পর সত্যিকারের গরিবের ডাক্তার বলে পরিচিত মাশলিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শতশত মানুষ বেহেই’রা অঞ্চলে একত্রিত হন। সেখান থেকে তার মৃ’তদেহ নেয়া হয় তার কর্মস্থলে যেখানে জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি কাটিয়ে গেছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*