থা’নায় ওসিকে ফোন করে যুবকের আত্মহ’ত্যা

স্যার আমি পাপন। যাকে আপনি সকালে থা’নায় নিয়ে গিয়েছিলেন, আম’রা তো গরীব মানুষ, রেলের জায়গাতে থাকি। এজন্য আমাদের কেউ দেখতে পারে না, সকালে আপনি আমা’র লা’শ দেখতে পাবেন।’

রাত ১২টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থা’নার ওসিকে ফোনে এ কথা বলে নিজের লেদ মেশিনের ঘরে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে আত্মহ-ত্যা করেন পাপন সাহা (২৪) নামে এক যুবক।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এ ঘটনা ঘটে। পাপন সাহা গোয়ালন্দ রেলস্টেশন এলাকার মৃ-ত অশোক সাহার ছে’লে।

পাপনের খালা ফুলকুমা’রী বলেন, বৃ-হস্পতিবার পাপন রেলস্টেশন সংলগ্ন তার নিজ বাড়ির পাশে থা’নার সীমানা দখল করে শ্রমিকদের সাথে নিয়ে প্রাচীরের কাজ করছিল। তখন গোয়ালন্দ থা’নার ওসি তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এসে পাপনকে থা’নায় নিয়ে যান এবং রাতে পাপন তার দোকানে

আত্মহ-ত্যা করেন।স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর কোমল সাহা বলেন, থা’না থেকে ছাড়া পেয়ে সাড়ে ১০টার দিকে পাপন ফোনে বলে, এক ফুট জায়গা ছেড়ে কাজ করতে বলেছে। আমি তাকে অন্তত ৬ ই-ঞ্চি জায়গা ছেড়ে কাজ করতে বলি।

প্রয়োজনে ওসির সাথে কথা বলব বলে জানাই। রাত পৌনে ১২টার দিকে খবর আসে পাপন আত্মহ-ত্যা করছে। দোকানে গিয়ে দেখি পাপন মাটিতে পড়ে আছে।

গোয়ালন্দঘাট থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে তার মোবাইল ফোনে পাপনের একটি কল আসে, সে কল দিয়ে বলে- ‘স্যার আমি পাপন।

যাকে আপনি সকালে থা’নায় নিয়ে গিয়েছিলেন, আম’রা তো গরীব মানুষ, রেলের জায়গাতে থাকি। এজন্য আমাদের কেউ দেখতে পারে না, সকালে আপনি আমা’র লা-শ দেখতে পাবেন।’এসব কথা শুনে রাতেই থা’নার পাশেই

তার বাড়িতে যাই। তার মা’র কাছে পাপন কোথায় জানতে চাই, তখন তার মা বলে সে আনছার ক্লাবের পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গেছে। এরপর তার মাকে ফোনের কথাগুলো বি-স্তারিত বলি। এবং তার মাকে নিয়ে দোকান খুলে দেখি সে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়ে আছে। তখন তাড়াতাড়ি করে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতা’লে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*