প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও মানছে না ব্যাংকগুলো

গত ২৫ মা’র্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। করো’নাভাই’রাস মহামা’রীতে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন,

তা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে বড় ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

সেই প্যাকেজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকের মধ্যে অন্যতম ছিলো ঋণের সুদ মওকুফ করা। এপ্রিল ও মে- করো’নাকালীন এই সময়ে ব্যাংকগুলো কোন সুদ কাটবে না। প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজ হিসেবে এই দুই মাসের সুদ সরকার দিয়ে দিবে। এই দুই মাসের সুদ তাই মওকুফ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনার পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বি’জ্ঞপ্তি দিলো। বি’জ্ঞপ্তিতে বলা হলো এপ্রিল মে- এই দুই মাসে কোন সুদ কা’টা হবে না।

করো’নাভাই’রাস প্রাদুর্ভাবে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সব ধরণের ব্যাংক ঋণের সুদ স্থগিত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে দেশের সব ব্যাংককে জারি করা এক বি’জ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সব ধরণের ব্যাংক ঋণ সুদবিহীন ব্লকড হিসাবে স্থা’নান্তর করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায় ‘এই স্থগিত সুদ পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে আদায় করা উচিত নয় এবং এ জাতীয় সুদের ব্যাংকগুলো আয়ের দিকে হস্তান্তর করা উচিত নয়।’

কিন্তু ব্যাংকগুলো প্রতি তিনমাসে এই সুদ কাটে। অনেকে আবার বাৎসরিকভাবে কাটে। এর মধ্যে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমা’র্শিয়াল ব্যাংক -সহ আরো কয়েকটি ব্যাংক রয়েছে। কিন্তু দেখা গেল সেই নির্দেশনা মোতাবেক চলা হচ্ছে না।

গ্রাহকরা অ’ভিযোগ করেছে ব্যাংকগুলো আগের মতোই সুদ কে’টেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও যথাযথভাবে মানছে না তারা। এমনকি নিজেদের দেওয়ার সার্কুলারও বেমালুম ভুলে গেছে।

জানা যায়, ব্যাংক কর্মক’র্তা ও পরাম’র্শক সরকারের কাছ থেকে টাকা নিলেও সমন্বিত ও স্বয়ংক্রিয় কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেননি, অথবা করেননি। কর হার কমিয়ে আওতাও বাড়ানো হয়নি। বরং এখন নতুন নতুন জটিলতার সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা যেসব বিধান নিয়ে আ’পত্তি জানাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভ্যাট রেয়াত নেওয়ার সুযোগ সীমিত করা, উচ্চপর্যায়ের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে নথিপত্র জ’ব্দ করার সুযোগ, ভ্যাট বিরোধ নিষ্পত্তিতে মা’মলার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের বদলে ২০ শতাংশ অর্থ জমা, টেলিযোগাযোগে ৫০ শতাংশ জমা দিয়ে সালিসে যাওয়া এবং তার ৩০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট কর্মক’র্তা প্রণোদনা হিসেবে পাবেন বলে বিধি করা ইত্যাদি।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফাহিমও প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে কিছু কিছু ব্যাংক সহায়তা করছে না বলে অ’ভিযোগ করেন। তিনি প্রস্তাব দেন, যারা সহায়তা করবে না, তাদের কাছ থেকে সরকারি অর্থ তুলে নিয়ে সহায়তাকারী ব্যাংককে দিতে হবে। আর সহায়তাকারী ব্যাংকগুলোকে আগামী বছরের জন্য ১ শতাংশ করপোরেট করে ছাড় দেওয়ার পরাম’র্শও দেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘প্রণোদনার বিষয়ে একটি শ্রেণি বি’ভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বাধা সৃষ্টিকারক ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানকে শা’স্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান নিশ্চয়ই আছে।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*