স্বামীর মৃ’ত্যু, স্ত্রী’কে দায়ী করে মা’রধর, চুল কে’টে দিলেন প্রতিবেশীরা

মা’থার চুল খাবলা খাবলা করে কা’টা। পরনের শাড়িতে কাদার দাগ। সারা শরীরে মা’রধরের চিহ্ন। সেই অবস্থায় এক যুবতী হাতজোড় করে কাঁদছেন। আর তাঁর চারপাশে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে অনেকে। তাঁরা পাল্টা শাসানি দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সুপর্ণা দাস নামের ওই মহিলাকে উ’দ্ধার করতে গিয়ে এমন ঘটনারই সাক্ষী হল পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট থা’নার পু’লিশ।

পু’লিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন ভোর রাতে কাঁউর চণ্ডী গ্রাম থেকে থা’নায় খবর আসে। সুব্রত দাস নামে এক ব্যক্তির দেহ নিজের বাড়িতেই ঝুলছে, এই খবর পেয়ে পু’লিশ সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পৌঁছয়।

কিন্তু তাঁকে উ’দ্ধার করে হাসপাতা’লে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা সুব্রত দাসকে মৃ’ত বলে জানিয়ে দেন। মৃ’তের স্ত্রী’ সুপর্ণা দাস ত’দন্তকারীদের জানিয়েছেন, বুধবার রাত ১টা নাগাদ হঠাৎ তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। উঠেই তিনি দেখেন, ঘরের বাইরে গলায় ফাঁ’স দিয়ে ঝুলছেন সুব্রত।

দ্রুত তাঁকে নামিয়ে জল দিয়ে স্বামীর জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কোনও সাড়া পাননি। এর পর সুপর্ণা পাশের গ্রামে তাঁর বাবা-মা কে ফোন করে খবর দেন। রাতেই তাঁরা আসেন এবং পু’লিশকে খবর দেন। এর পর পু’লিশ এসে সুব্রত দেহ নামিয়ে হাসপাতা’লে নিয়ে যায়।

কিন্তু এ দিন সকালে ফের থা’নায় ফোন আসে কাঁউর চণ্ডী গ্রাম থেকে। অ’ভিযোগ, সুব্রতর অস্বাভাবিক মৃ’ত্যুর পর তাঁর স্ত্রী’-র উপর চড়াও হয়েছেন গ্রামবাসীদের একাংশ। তাঁর মা’থার চুল কে’টে মন্দিরে আ’ট’কে রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে অ’ভিযোগ, ওই মহিলার পরিবারের লোকজনকেও মা’রধর করা হয়েছে। এর পরেই ওই মহিলা এবং তাঁর আত্মীয়দের উ’দ্ধার করতে যায় পু’লিশ এবং সেখানে গিয়ে ওই দৃশ্যের মুখোমুখি হয়।

সুপর্ণাদের উ’দ্ধার করতে গিয়ে ব্যাপক বি’ক্ষোভের মধ্যেও পড়তে হয় পু’লিশকে। এই ঘটনায় অ’ভিযু’ক্তদের বি’রুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জে’লা পু’লিশের এক শীর্ষ আধিকারিক।

পু’লিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ সকালে কাঁউর চণ্ডীর বাসিন্দারা জানতে পারেন যে সুব্রতর অস্বাভাবিক মৃ’ত্যু হয়েছে। নিজের বাড়িতেই তাঁকে গলায় ফাঁ’স দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। এর পরেই গ্রামবাসীদের একাংশ সুব্রতর বাড়িতে চড়াও হয় বলে অ’ভিযোগ। ওই বাড়িতে তখন ছিলেন সুব্রতর স্ত্রী’ সুপর্ণা। ছিলেন সুপর্ণার মা, বাবা এবং দিদি।

গ্রামবাসীরা সুপর্ণা এবং তাঁর আত্মীয়দের বাড়ির বাইরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে আসে বলে অ’ভিযোগ। শুরু হয় মা’রধর। গ্রামবাসীদের অ’ভিযোগ, সুপর্ণা এবং তাঁর বাবা-মা মিলে সুব্রতকে খু’ন করেছেন। পু’লিশের কাছে সুপর্ণা অ’ভিযোগ করেছেন, গ্রামের লোকজন তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁদের সবাইকে বেধড়ক মা’রধর শুরু করেন। এর পর তাঁর মা’থার চুল কে’টে দিয়ে স্থানীয় একটি মন্দিরে আ’ট’কে রাখা হয় বলেও অ’ভিযোগ। এর পর ফের গ্রামে পু’লিশ যায়। উ’দ্ধার করা হয় সুপর্ণাদের। -আনন্দবাজার পত্রিকা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*